শ্রী শ্রী রামচন্দ্র দেবের সমবেত উৎসব মন্দির প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা

YouTube Channel

মন্দির পরিচিতি শ্রীশ্রীরামঠাকুর সেবা মন্দির, আগরতলা, ত্রিপুরা

মন্দির পরিচিতি

শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে শ্রীশ্রীরামঠাকুর সেবা মন্দির, আগরতলা, ত্রিপুরা জ্ঞানচক্র শ্রীরাম নিবাসে প্রবেশ করিতেই প্রাসাদের শীর্ষদেশে যে আকাশ-স্পর্শী চক্রটি দৃষ্টিগোচর হয়- শ্রীশ্রীঠাকুর তাহার নামকরণ করিয়াছিলেন 'জ্ঞানচক্র'। এই চক্রটি শ্রীশ্রীঠাকুরের স্বহস্ত অঙ্কিত।



 চক্রটি সর্বধর্ম সমন্বয়ের প্রতীক। ইহাতে সন্নিবেশিত প্রতিটি গোলক, প্রতিটি রেখা ও চিত্র তাৎপর্যপূর্ণ। শ্রীশ্রীঠাকুরের কথায় তাহার পরিচিতি নিম্নরূপঃ শ্রীশ্রীঠাকুর তিনটি চক্রের মধ্যে বৃহত্তরটির আখ্যা দিয়াছেন 'ব্রহ্মাণ্ড'। তৎসংলগ্ন ক্ষুদ্রতর চক্রটির নাম হইল 'বৌদ্ধচক্র'। ইহা বৌদ্ধধর্মের প্রতীক। 

ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রসংলগ্ন ক্ষুদ্রতম চক্রটির নাম 'গুরু নানক চক্র'। ইহা গুরু নানক সম্প্রদায়ের প্রতীক। ব্রহ্মাণ্ডস্থিত কেন্দ্র ভেদ করিয়া যে দণ্ড উত্তর-দক্ষিণ দিকে প্রসারিত হইয়া ব্রহ্মাণ্ডকে পূর্ব-পশ্চিমে দুই ভাগে বিভক্ত করিয়াছে তাহার নাম 'ব্রহ্মদণ্ড'। এই ব্রহ্মদণ্ডের উপরিভাগে আছে 'গরুড় মূর্তি'। ইহা ভক্তের স্থান


। ব্রহ্মাণ্ড কেন্দ্র ভেদ করিয়া যে দণ্ড পূর্ব ও পশ্চিম দিকে গিয়া ব্রহ্মাণ্ডকে উত্তর ও দক্ষিণে দুই ভাগে ভাগ করিয়াছে- তাহার নাম 'শ্রীভগবানের বংশী'। এই ভগবানের বংশী ব্রহ্মাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে মিলিত হইয়া 'ক্রশ' চিহ্ন সৃষ্টি করিয়াছে- ইহা খ্রীষ্টধর্মের প্রতীক। বৃত্তস্থিত ভেদ কেন্দ্র করিয়া যে দণ্ড বায়ু ও অগ্নিকোণে গিয়াছে তাহা হইল শিবের ত্রিশূল অর্থাৎ শৈব ও শাক্ত ধর্মের প্রতীক। বৃত্তস্থিত কেন্দ্র ভেদ করিয়া আর একটি দণ্ড ঈশান ও নৈঋত কোণের দিকে চলিয়া গিয়াছে। ইহার একদিকে রহিয়াছে চাঁদ, ইহা ইসলাম ধর্মের প্রতীক। 

অন্যদিকে রহিয়াছে রামায়েত সম্প্রদায়ের প্রতীক চিহ্ন খুন্তি। আনুমানিক ১৯৭৪ ইং সনে আগরতলা দুর্গাবাড়িতে শ্রীশ্রীঠাকুরের উৎসব করিবার সিদ্ধান্ত লইয়া উৎসব উপলক্ষে একটি উৎসব কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের নাম যথাক্রমে- ডাঃ যতীন্দ্রচন্দ্র দেবরায়, সভাপতি, শ্রীযুক্ত মাণিকলাল গাঙ্গুলী, সহসভাপতি, দেবেন্দ্রচন্দ্র মুখার্জী, সাধারণ সম্পাদক, মণীন্দ্রচন্দ্র দাস ও ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, যুগ্ম সম্পাদক, গোপালচন্দ্র বণিক, কোষাধ্যক্ষ। 

সদস্যবৃন্দ - শ্রীযুক্ত মণীন্দ্রচন্দ্র দেবরায়, দীনেশচন্দ্র দাস, শ্রীযুক্ত মনোমোহন দাস, হেমেন্দ্রচন্দ্র কর, শ্রীযুক্ত উষারঞ্জন দাশগুপ্ত। পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ শ্রীমৎ ভবতোষ বন্দ্যোপাধ্যয় ধর্মনগর হইতে আগরতলা শুভ পদার্পণ করিবেন। তাই কমিটির পক্ষ হইতে মণীন্দ্রচন্দ্র দাসকে পাঠানো হইল। তিনি পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ  মোহন্ত মহারাজ মহোদয়কে লইয়া আগরতলা আসিলেন। নিমন্ত্রণপত্র ছাপা হইল, বিভিন্ন জায়গায় নিমন্ত্রণ পত্র বিলি করা হইল, পত্রিকাতে প্রকাশ করা হইল, মাইকে প্রচার করা হইল। একটি প্যাণ্ডেল করা হইল। খোয়াই হইতে মহাপ্রসাদ তৈরি করার জন্য খাবার চাউল আনা হইল। কীর্তনিয়া দল বায়না করা হইল।

 যথাসময়ে কীর্তনিয়া দল আসিয়া পৌঁছিল। গঙ্গা আহ্বানের পর সায়াহ্নে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা আরম্ভ হইল। ভোগ-রাগ শেষ হইল। এখন শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ প্রসাদ বিতরণ। উপস্থিত ভক্তগণ সির্নি প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। দ্বিতীয় দিন ভোরে নামযজ্ঞ আরম্ভ হয়। 

মধ্যাহ্নে শ্রীশ্রীঠাকুর পূজা, ভোগ-রাগ শেষ হওয়ার পর প্রসাদ বিতরণ- জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে প্রসাদ গ্রহণ করেন। পরম শ্রদ্ধেয় মোহন্ত মহারাজ হাজার হাজার ভক্তকে নাম বিতরণ করিলেন। অহোরাত্র নামযজ্ঞ চলিতেছিল। সায়াহ্নে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা। পূজা শেষ হওয়ার পর সির্নি প্রসাদ বিতরণ।

 উপস্থিত ভক্তগণ সির্নি প্রসাদ গ্রহণ করেন। তৃতীয় দিনে মধ্যাহ্নে শ্রীশ্রীঠাকুর পূজা। ভোগরাগ শেষ হইল। এখন মহাপ্রসাদ বিতরণ। 

শিশু উদ্যানে জাতি-বর্ণ-নির্বিশেষে অগণিত ভক্ত মহাপ্রসাদ গ্রহণ করিলেন। সায়াহ্নে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা, পূজা শেষ হইল। সির্নি প্রসাদ বিতরণ। হাজার হাজার ভক্ত সির্নি প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। চতুর্থ দিনে ভোরে নগর কীর্তন।

 শ্রীশ্রীঠাকুরকে মঞ্চে বসাইয়া কীর্তন সহযোগে শহর পরিক্রমা করিয়া উৎসব প্রাঙ্গণে ফিরিয়া আসার পর উৎসবের পরিসমাপ্তি হইল।

 টাউন প্রতাপগড় হইতে প্রমোদরঞ্জন ভট্ট মহাশয় আসিয়া পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজকে প্রণাম করিয়া বলিলেন-শ্রীশ্রীরামঠাকুর আশ্রম করার জন্য আমি দুই কানি ভূমি দান করিতে চাই। আপনার অনুমতি পাইলে আপনাকে জায়গাটি দেখাইতে পারি।

শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ দু'-তিন জনকে সঙ্গে লইয়া ভট্টবাবুর জায়গা দেখিতে গেলেন। তিনি জায়গাটি দেখিয়া রামঠাকুর বালিকা বিদ্যালয়ে আসিয়া বসিলেন। 

জায়গাটি দেখিয়া তিনি পছন্দ করিয়াছিলেন। ইত্যবসরে ভট্টবাবু তাঁহার স্ত্রীকে সঙ্গে লইয়া আসিলেন এবং উভয়ে মোহন্ত মহারাজকে প্রণাম করিয়া একখানা দানপত্র তাঁহার হাতে অর্পণ করিলেন। সকলে প্রসাদ পাওয়ার পর মোহন্ত মহারাজ দুর্গাবাড়িতে ফিরিয়া আসিলেন। 

দুর্গাবাড়িতে আসিয়া দানপত্রখানা আমাদের দিয়া বলিলেন- ঐ স্থানে একটি সেবা মন্দির করা যাইতে পারে। তিনি চলিয়া যাওয়ার পর কমিটির সদস্যগণ কানুনগো এবং আমিন লইয়া দানকৃত ভূমিটি জরিপ করিয়া দেখিতে পাইলেন এক কানি সাড়ে বারগণ্ডা ভূমি জোতের। সাড়ে সাত গণ্ডা ভূমি খাস। ভট্টবাবুকে বলা হইলে তিনি জোতের ভূমি হইতে সাড়ে সাত গণ্ডা দিলেন। 

দুই কানি ভূমির চতুর্দিকে পিলার করাইয়া সীমানা ঠিক করা হইল। কয়েকদিন পর একটি সাধারণ সভা আহ্বান করা হইল। উপস্থিত ভক্তগণ হইতে আর্থিক সাহায্য পাইবার প্রতিশ্রুতি পাইয়া মাটি ফেলার কাজ আরম্ভ হইল। মাটি ভরাট করা হইল। মন্দিরও তৈরি হইল। মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন ধার্য হইল। পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ শুভ পদার্পণ করিলেন। মোহন্ত মহারাজ হাজার হাজার ভক্তকে নাম দিলেন। উৎসব সম্পন্ন করিয়া মোহন্ত মহারাজ চলিয়া যাওয়ার পর ভট্টবাবু বলিলেন- তিনি এক কানি দশগণ্ডা জায়গা বিক্রী করিবেন। আমরা তাঁহাকে বলিলাম- মন্দিরের জন্য আরও জায়গার প্রয়োজন আছে। আপনি যদি সাত হাজার টাকা লইয়া জমি রেজিস্ট্রী করিয়া দিতে রাজি হন তাহা হইলে আমরা জমি খরিদ করিতে রাজি আছি। 

বাকী টাকা আমরা আস্তে আস্তে পরিশোধ করিব। আমাদের কথায় তিনি রাজি হইয়া সাত হাজার টাকা গ্রহণ করিয়া জমি রেজিস্ট্রী  করিয়া দিলেন। এক কানি দশ গণ্ডা জায়গা রেজিস্ট্রী দলিল করিয়া দেওয়ার পর কাননগো ও আমিন জায়গা জরিপ করার পর দেখা গেল আঠার গণ্ডা জায়গা নিজ জোতের, বাকী বার গণ্ডা জায়গা খাস জমি। 

ভট্টবাবুকে বলা হইল আপনি আঠার গণ্ডা জমির মূল্য পাইবেন। আঠার গণ্ডা জমির চতুর্দিকে পিলার বসানোর সময় ভট্টবাবু বাধা দিলেন। উপস্থিত ভক্তগণ তাঁহাকে বারংবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি পিলার বসাইতে দিলেন না। ভক্তগণ বলিলেন তাহা হইলে এখানে আর মন্দির করা হইবে না। মন্দিরের জন্য অন্য জায়গা দেখিব। সেইস্থান হইতে সকলেই চলিয়া আসিলাম।

 ভক্তগণ অন্যান্য জায়গা দেখিতে আরম্ভ করিলেন। একদিন দীনেশবাবু, শ্রীযুক্ত অমরবাবু, ঊষাবাবু এবং আমি মাননীয় তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী সুখময়বাবুর বাড়িতে গিয়া তাঁহাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করিলাম, যে ভাবেই হউক আমাদিগকে একটি খাস জায়গা দিতে হইবে। তিনি জানাইলেন- বনমালীপুর দুই কানি তিন গণ্ডা খাসভূমি আছে, তাহা নিতে পারেন এবং তিনি মাননীয় রাজস্ব মন্ত্রী শ্রীযুক্ত কৃষ্ণদাস ভট্টাচার্য মহাশয়ের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করিলেন।

 আলোচনা অনুযায়ী পরদিন আমরা বেলা ১০টায় কৃষ্ণদাস বাবুর চেম্বারে গিয়া তাঁহার সাক্ষাৎ পাইলাম না। জানিতে পারিলাম তিনি রেভিনিউ কমিশনারের অফিসে গিয়াছেন। আমরা রেভিনিউ কমিশনারের অফিসে গিয়া তাঁহার সঙ্গে দেখা করিলাম এবং তাঁহাকে কমিটির নামের লিস্ট দিলাম। তিনি আমাদিগকে বলিলেন মন্দিরের কি নাম রাখিবেন? মন্দিরের নামকরণ সম্বন্ধে আমরা কমিটির সদস্যদের সহিত পরামর্শ করিয়া আসি নাই। তাই আমরা চিন্তায় পড়িয়া গেলাম। আমি চক্ষু মুদ্রিত করিয়া শ্রীশ্রীঠাকুরের নাম স্মরণ করিতে লাগিলাম। 

এমন সময় কে যেন আমাকে বলিতে লাগিলেন 'শ্রীশ্রীরামঠাকুর সেবা  মন্দির' নাম রাখেন। আমি তৎক্ষণাৎ কৃষ্ণদাসবাবুকে বলিলাম-'শ্রীশ্রীরামঠাকুর সেবা মন্দির' নাম রাখিব। কৃষ্ণদাসবাবু এবং সেখানে উপস্থিত সকলেই এইরূপ সুন্দর নাম শুনিয়া বলিয়া উঠিলেন – চমৎকার নাম রাখিয়াছেন। তিনি আমাদিগকে বলিলেন- অদ্যই আমি দিল্লী যাইতেছি। 

সাত-আট দিন পর দিল্লী হইতে ফিরিয়া আসিয়া আপনাদিগকে ডাকাইব। আমরা চলিয়া আসিলাম। তিনি সাত-আট দিন পর দিল্লী হইতে ফিরিয়া আসিয়া আমাদিগকে ডাকাইলেন। আমরা তাঁহার চেম্বারে গেলে তিনি আমাদিগকে একখানা সংবিধান দিয়া বলিলেন- সংবিধানখানা পড়িয়া যদি কোন পরিবর্তন করা প্রয়োজন মনে করেন আমাকে জানাইবেন। আমরা সংবিধানখানা আনিয়া অমরবাবুকে দেখাইলাম। তিনি সংবিধানখানা আগাগোড়া পড়িয়া বলিলেন- কোন পরিবর্তন করিতে হইবে না। আমরা কৃষ্ণদাসবাবুকে সংবিধানখানা ফেরত দিলাম।

 তিনি সঙ্গে সঙ্গেই সোসাইটির রেজিস্টার মিঃ এস. আর. চক্রবর্ত্তী মহাশয়কে ফোন করিয়া বলিলেন- আপনার নিকট একখানা সংবিধান পাঠাইতেছি। আপনি এখনই তাহা সোসাইটি এ্যাক্টে রেজিস্ট্রী করিয়া দিবেন। শ্রীশ্রীরামঠাকুর সেবা মন্দিরের সংবিধান সোসাইটি অ্যাক্টে রেজিস্ট্রী হওয়ার পর উক্ত জায়গাতে মাটি ফেলিবার জন্য একজন কন্ট্রাক্টরের সহিত আলাপ করিলাম। কন্ট্রাক্টর জায়গাটি দেখিয়া মাটি ভরাট করিতে সাত হাজার টাকা দাবি করিল। 

আমি অমরবাবুর সহিত পরামর্শ করিয়া তাহাকে মাটি ফেলিতে বলিলাম। তাহাকে ইহাও বলিলাম, একত্রে সম্পূর্ণ টাকা দিতে পারিব না। আস্তে আস্তে টাকা দেওয়া হইবে। কন্ট্রাক্টর আমাদের প্রস্তাবে রাজি হইল। ইহার পরেও বহু বাধা-বিঘ্নের মধ্য দিয়া খড়ের ছাউনি দেওয়া মন্দিরের কাজ সম্পূর্ণ হইল। কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  পাহাড়তলীর শ্রীশ্রীকৈবল্যধামে গেলাম। শ্রীশ্রীঠাকুরকে প্রণাম করিয়া মোহন্ত নিবাসে যাইয়া পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজকে সকল ঘটনা জানাইলাম। মোহন্ত মহারাজের অনুমোদন অনুযায়ী পূর্বে স্থাপিত টাউন প্রতাপগড়ের মন্দির হইতে বিগ্রহ, কামধেনু মাতা এবং অস্থাবর জিনিসগুলি বনমালীপুরস্থিত 'শ্রীশ্রীরামঠাকুর সেবা মন্দিরে' লইয়া আসিলাম। 'শ্রীশ্রীরামঠাকুর সেবা মন্দিরে' বিগ্রহটি স্থাপন করা হইল। কার্যকরী কমিটির মিটিং ডাকা হইল। উক্ত মিটিংয়ে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করা হইল। 

সভাপতি ডাঃ যতীন্দ্র দেবরায়, সহ-সভাপতি শ্রীযুক্ত মণীন্দ্রচন্দ্র দেবরায়, সাধারণ সম্পাদক শ্রীযুক্ত অমররঞ্জন গুপ্ত, যুগ্ম সম্পাদক ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত ও মণীন্দ্রচন্দ্র দাস, কোষাধ্যক্ষ দীনেশচন্দ্র দাস, সদস্যবৃন্দ হেমেন্দ্রচন্দ্র কর, শ্রীযুক্ত সতীশচন্দ্র রায়, শ্রীযুক্ত জ্যোতিলাল সাহা, শ্রীযুক্ত উযারঞ্জন দাশগুপ্ত, শ্রীযুক্ত হরিপদ বণিক, শ্রীযুক্ত নারায়ণ চক্রবর্তী ও শ্রীশঙ্করনারায়ণ সিংহরায়। পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজকে শুভ আগমনের জন্য নিমন্ত্রণ পত্র দেওয়া হইল। কীর্তনিয়া দল বায়না, পত্রিকাতে প্রকাশ এবং মাইকে প্রচার করা হইল, প্যাণ্ডেল ও মঞ্চ তৈরি হইল। 

উৎসবের তৈজসাদি খরিদ করা হইল। যথাসময়ে কীর্তনিয়া দল আসিল। সন্ধ্যায় গঙ্গা আহ্বানের পর শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা আরম্ভ হইল। শ্রীশ্রীসত্যনারয়ণ পূজা সমাপ্তির পর সির্নি প্রসাদ বিতরণ করা হইল। উপস্থিত ভক্তগণ প্রসাদ পাইলেন। দ্বিতীয় দিনে ভোরে অষ্টপ্রহর নাম যজ্ঞ আরম্ভ হইল। মধ্যাহ্নে শ্রীশ্রীঠাকুর পূজা আরম্ভ হইল, ভোগ-রাগ শেষ হইল। 

হাজার হাজার ভক্ত প্রসাদ পাইলেন। সন্ধ্যায় শ্রীশ্রীসত্যনারয়ণ পূজা আরম্ভ হইল। পূজা শেষ হওয়ার পর সির্নি প্রসাদ বিতরণ। উপস্থিত ভক্তগণ সির্নি প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। তৃতীয় দিন মধ্যাহ্নে শ্রীশ্রীঠাকুর পূজা, ভোগ-রাগ শেষ হইল। জাতি-বর্ণ ৯২ শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে নির্বিশেষে ভক্তগণ মহাপ্রসাদ গ্রহণ করিলেন। অহোরাত্র নামযজ্ঞ চলিতেছিল। সায়াহ্নে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা আরম্ভ হয়। পূজা সমাপ্তির পর সির্নি প্রসাদ উপস্থিত ভক্তগণ গ্রহণ করেন। চতুর্থ দিন ভোরে নগর কীর্তন সহযোগে শহর পরিক্রমা করিয়া ফিরিয়া আসার পর উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ উৎসবে শুভ আগমন করিলেন। শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ হইতে হাজার হাজার ভক্ত নাম পাইলেন। চারদিন ব্যাপী আনন্দোৎসব সমাপান্তে কার্যকরী কমিটির সদস্যগণ পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ নিবাসে গিয়া তাঁহার নিকটে আবেদন রাখিলেন, আমরা স্থায়ী একটি পাকা মন্দির করিতে ইচ্ছা করিয়াছি। তিনি আমাদের আবেদনে সম্মতি দিয়া পঞ্জিকা দেখিয়া শুভ দিনক্ষণ স্থির করিয়া দিলেন। 

পরদিন শুভসময়ে পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ কীর্তন সহযোগে নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হইয়া ক্রিয়াদি সুসম্পন্ন করিয়া একখানা ইট স্থাপন করিলেন। ঐদিন রাত্রেই তিনি একটি কার্যকরী কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করিয়া দিলেন। বিভিন্ন মহকুমা হইতে তিনি ১১জন সদস্য করেন এবং স্থানীয় ভক্তগণ হইতে শ্রীযুক্ত মাণিকলাল গাঙ্গুলী, শ্রীযুক্ত মণীন্দ্রচন্দ্র দেবরায়, শ্রীযুক্ত নরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য, ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, শ্রীযুক্ত অমররঞ্জন গুপ্ত, শ্রীযুক্ত জ্ঞানেন্দ্র চন্দ্র সাহা, শ্রীযুক্ত জ্যোতিলাল সাহা, শ্রীযুক্ত সতীশচন্দ্র রায়, শ্রীযুক্ত ঊষারঞ্জন দাশগুপ্ত, চিন্তাহরণ সাহা, শ্রীযুক্ত অমরেন্দ্র পাল, শ্রীযুক্ত প্রফুল্লকুমার মজুমদার, শ্রীযুক্ত দীপক সেনগুপ্ত, শ্রীযুক্ত ভবতোষ দত্ত, পরিমল মুখার্জী, শ্রীযুক্ত শিবপ্রসাদ চৌধুরী, শ্রীযুক্ত নারায়ণ চক্রবর্তী, শ্রীশঙ্করনারায়ণ সিংহরায়, শ্রীযুক্ত অরুণবিকাশ সাহা, শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে ও শ্রীযুক্ত রঞ্জিৎ সিংহরায়কে করেন। 

সাধারণ সম্পাদক-ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত। যুগ্ম সম্পাদক শ্রীযুক্ত অমররঞ্জন গুপ্ত, পরিমল মুখার্জী ও চিন্তাহরণ সাহা, কোষাধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত ঊষারঞ্জন দাশগুপ্ত, হিসাবপরীক্ষক শ্রীযুক্ত জ্যোতিলাল সাহা। ১৯৮৩ সন হইতে ১৯৮৭ সন পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করিয়া একখানা পাকা মন্দির নির্মাণ করা হইল। শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথের অশেষ কৃপায় এবং পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজের আশীর্বাদে এত বড় কাজ সুসম্পন্ন করা সম্ভব হইয়াছে। ভক্তদের অনুরোধে পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ ১৯৮৮ইং সনে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা উৎসবে শুভ পদার্পণ করিলেন। যাদবপুর শ্রীশ্রীকৈবল্যধাম হইতে পুরোহিত শ্রীযুক্ত দিলীপ চক্রবর্তী মহাশয় আসিলেন।

 কলিকাতা দত্তপুকুর হইতে ডক্টর পুলিনরঞ্জন দাশ, এম. এ. (ডবল), পি-এইচ.ডি. মহোদয়ও আসিলেন। অধিবাস দিন বিকালে পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ হইতে অনুমতি লইয়া পুলিনবাবু বেদবাণী পাঠ ও শ্রীশ্রীঠাকুর প্রসঙ্গ আলোচনা করিলেন। ভক্তগণ তাঁহার নিকট ঠাকুর প্রসঙ্গ শুনিয়া খুবই আনন্দ উপভোগ করিলেন। তাঁহার ঠাকুর প্রসঙ্গ শেষ হওয়ার পর কীর্তন সহযোগে গঙ্গা আহ্বান করিতে যাওয়া হয়। গঙ্গা আহ্বান করিয়া আনিয়া সায়াহ্নে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা আরম্ভ হয়। দিলীপবাবু শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ হইতে অনুমতি লইয়া পূজায় বসিলেন। পূজা শেষ হওয়ার পর, উপস্থিত ভক্তগণ সির্নি প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। দ্বিতীয় দিন ভোরে ষোল প্রহর নাম যজ্ঞ আরম্ভ হইল। মধ্যাহ্নে পূজা আরম্ভ করার সঙ্গে সঙ্গে মৃদঙ্গ করতাল বাজিয়া উঠিল। 

নৃত্যের তালে তালে কীর্তন চলিতে লাগিল। রমণীগণ উলু ধ্বনিতে পূজা-অঙ্গন মুখরিত করিয়া দিলেন।8 শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে বেলা ৮ ঘটিকায় পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ পূর্ব মন্দিরে গিয়া সিংহাসন হইতে বিগ্রহটি মঞ্চে উঠাইয়া কীর্তন সহযোগে নূতন মন্দিরে আসিয়া তিন বার মন্দির প্রদক্ষিণ করিয়া বিগ্রহটি সিংহাসনে স্থাপন করিলেন। 

সঙ্গে সঙ্গে রমণীগণ উলুধ্বনিতে পূজা-অঙ্গন মুখরিত করিয়া দিলেন। শ্রীযুক্ত দিলীপবাবু অনুমতি লইয়া পূজায় বসিলেন। সঙ্গে সঙ্গে মৃদঙ্গ করতাল বাজিয়া উঠিল। মুহুর্মুহু শঙ্খধ্বনি চলিতে লাগিল। পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ পাশে বসিয়া পড়িলেন। আমাকে এবং লক্ষ্মণবাবুকে তাঁহার পাশে বসিতে বলিলেন। তাঁহার আদেশে আমরা তাঁহার পাশে বসিয়া পড়িলাম। 

পূজা আরম্ভ হইল। ভোগ-রাগ শেষ হইল। মোহন্ত মহারাজ মন্দির হইতে বাহির হইয়া মোহন্ত নিবাসে চলিয়া গেলেন। আনুমানিক রাত্রি বারোটায় পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ আমাকে ডাকাইলেন। আমি ভিতরে প্রবেশ করিয়া তাঁহাকে প্রণাম করিলে তিনি আমার মাথায় হাত রাখিয়া বলিলেন- শ্রীশ্রীঠাকুর স্বয়ং চিত্রপট হইতে প্রকট হইয়া উৎসবের আনন্দ উপভোগ করিয়াছেন। 

আপনি খুবই ভাগ্যবান। তৃতীয় দিন মধ্যাহ্নে পূজায় বসার পূর্বে শ্রীযুক্ত দিলীপবাবু পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ হইতে অনুমতি লইয়া পূজায় বসিলেন। ভোগ-রাগ শেষ হওয়ার পর মহাপ্রসাদ বিতরণ। জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে অগণিত ভক্ত মহাপ্রসাদ গ্রহণ করিলেন। সায়াহ্নে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা। পূজা শেষ হওয়ার পর উপস্থিত ভক্তগণ সির্নি প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ প্রত্যহ হাজার হাজার ভক্তকে নাম দিলেন।শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে ১৯৫ ইহার পর ১১/৬/৯৪ ইং তারিখে পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ আগরতলায় শুভ পদার্পণ করিলেন। তাঁহার আগমন উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান করা হয়। 

পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ হইতে হাজার হাজার ভক্ত নাম পাইয়াছেন। সায়াহ্নে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা আরম্ভ হয়। পূজা শেষ হওয়ার পর হাজার হাজার ভক্ত সির্নি প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। নামসংকীর্তন চলিতেছে। মধ্যাহ্নে শ্রীশ্রীঠাকুর পূজা, ভোগ-রাগ শেষ হওয়ার পর হাজার হাজার ভক্ত জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে মহাপ্রসাদ গ্রহণ করিলেন। সায়াহ্নে শ্রীশ্রীসত্যনারায়ণ পূজা আরম্ভ করা হইল। পূজা শেষ হওয়ার পর ভক্তগণ সির্নি প্রসাদ গ্রহণ করিলেন। পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজ রওনা হইয়া যাওয়ার পূর্বে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করিয়া গেলেন। 

 ১১/৮/৯৬ ইং তারিখে সাধারণ সভায় কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ' এবং আমন্ত্রিত ভক্তগণের উপস্থিতিতে নাটমন্দিরের প্ল্যানখানা পেশ করা হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে উক্ত প্ল্যানখানা অনুমোদিত হয়। পরে শ্রীযুক্ত সচ্চিদানন্দ নাগ, চিফ্ ইঞ্জিনিয়ার মহোদয় উক্ত প্ল্যানখানা অনুমোদন করেন। উক্ত অনুমোদিত প্ল্যান লইয়া যাদবপুর শ্রীশ্রীকৈবল্যধামে গিয়া পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ মোহন্ত মহারাজকে দেখানোর পর তিনি প্ল্যানখানা দেখিয়া অনুমোদন করেন। 


 ১৯৯৮ ইং সনের মার্চ মাসে পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ ভবতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় মোহন্ত মহারাজ আগরতলায় শুভ আগমন করেন এবং ত্রিপুরার অগণিত ভক্তকে নাম বিতরণ করেন। 

তিনি ত্রিপুরা হইতে প্রত্যাগমনের পূর্বে ঐ সেবা মন্দিরের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক, শ্রীঅমর রঞ্জন গুপ্ত, শ্রীমাণিকলাল বণিক ও শ্রীদীপক সেনগুপ্ত, যুগ্ম সম্পাদক, শ্রীভবতোষ দত্ত, কোষাধ্যক্ষ, শ্রীশিশু সেনগুপ্ত, ক্যাশিয়ার, শ্রীযুক্ত মণীন্দ্রচন্দ্র দেবরায়,৯৬ শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে শ্রীচন্দন দাস, শ্রীপ্রফুল্ল কুমার মজুমদার, শ্রীস্বপন কুমার বণিক ও শ্রীহরিশঙ্কর দাস, সদস্য প্রভৃতিকে লইয়া একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করিয়া দেন। 

 আমার অনুজ বন্ধু শ্রীযুক্ত শিশু সেনগুপ্তের প্রেরণায় শ্রীশ্রীঠাকুরকে স্মরণে রাখিয়া যথাসাধ্য স্মৃতিচারণ লিপিবদ্ধ করিলাম। জানি না, শ্রীশ্রীঠাকুর আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টাকে কতটুকু সফল করেন।

 আমার স্মৃতিচারণা পড়িয়া বা শুনিয়া পাঠকগণ যদি যৎসামান্যও আনন্দ উপভোগ করেন, তাহা আমার কৃতিত্ব নহে। পরমারাধ্য শ্রীশ্রীঠাকুরের অশেষ কৃপা এবং পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ ভবতোষ বন্দ্যোপাধ্যায় মোহন্ত মহারাজের আশীর্বাদ ব্যতীত আর কিছুই নহে। 

 জয় রাম শ্রীশ্রীকৈবল্যনাথ স্মরণে 

 ডাঃ খগেন্দ্রনাথ গুপ্ত 


মন্দির পরিচিতি শ্রীশ্রীরামঠাকুর সেবা মন্দির, আগরতলা, ত্রিপুরা মন্দির পরিচিতি   শ্রীশ্রীরামঠাকুর সেবা মন্দির, আগরতলা, ত্রিপুরা Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on মার্চ ০৮, ২০২৬ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.