শ্রী শ্রী রামচন্দ্র দেবের সমবেত উৎসব মন্দির প্রতাপগড়, আগরতলা, ত্রিপুরা

YouTube Channel

সংসারীদের প্রতি গুরুবাণী"

 

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের বাণী
"আমি তো কিছু না যন্ত্র মাত্র,
যে যেভাবে বাজাবে,সে তেমন শব্দ পাবে। "
শ্রীরাম ঠাকুরের নিজের প্রয়োজন বলতে কিছুই ছিল না,
ভক্তদের প্রয়োজনেই তাঁর যত কথা বলা যাতায়াত আনাগোনা।
জিজ্ঞাসু না হলে যেচে কোন উপদেশ দিতেন না কাউকে,
শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে কোন বিতর্কে জড়াতেন না নিজেকে।
আত্মপ্রতিষ্ঠা বা নিজেকে জাহির করার ছিল না কোন প্রবৃত্তি,
ষড়রিপুর উৎপীড়ন ছিল না কিছু তিনি ছিলেন আমিত্বের নিবৃত্তি।
যার যেমন জিজ্ঞাসা সেই মতে নিদর্শন দেখাতেন তারে,
অপরের সংস্কার অভ্যাসের মর্যাদা দিতেন তিনি ব্যবহারে।
তাই তো ঠাকুরের বাণী 'আমি তো কিছু না যন্ত্র মাত্র,
যে যেমন বাজাবে সে তেমন শব্দ পাবে '
দৃষ্টান্ত আচার আচরণ রেখে বুঝিয়েছেন সবারে,
তাঁর দেহধারণ কেবলই জীবের কল্যান মঙ্গল আর উদ্ধারে।।
 
অহংকার যত কমে, ঈশ্বর তত প্রকাশিত হন।
ভক্তি যত বাড়ে, হৃদয় তত নির্মল হয়।
যে মানুষ সবার মঙ্গলে ভাবতে শেখে,
যে মানুষ ভালোবাসা দিতে জানে,
যে মানুষ অন্যকে কষ্ট না দিয়ে চলে—
সেই মানুষই সত্যিকারের আধ্যাত্মিক.......
""শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেন,অজ্ঞানতাই প্রকৃত জ্ঞান, বুঝা না বুঝা একই,
একেবারে কিছু না বুঝিতে পারাই সবচাইতে ভালো বুঝা সহজ যুক্তি।
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের সমগ্র জীবনটাই রহস্যময় এবং সাধারণ বুদ্ধির অগম্য,
তাঁহার কথা,চলা,বলার মধ্যে আমাদের না বুঝাটাই স্বাভাবিক গণ্য।
তাঁহার কথা বুঝা বা বুঝিবার মত সামর্থ্যের জন্য দরকার সাধনা ও একাগ্রতা,
কথার নিগূঢ় তাৎপর্য,প্রকৃত তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করিতে পারাটা তাঁর কৃপার বারতা।
অতএব আমাদের না বুঝিবার অনেক কিছু ই থাকিবে এতে নাই কোন শন্কা,
তবে একটু বুঝিতে চাওয়ার আগ্রহ ও ধৈর্য্য থাকিলেই মিলে ঠাকুরের প্রসন্নতা।।
 
 
 
"বুঝা না বুঝা একই"
শ্রীশ্রী রামঠাকুর বলেন,অজ্ঞানতাই প্রকৃত জ্ঞান, বুঝা না বুঝা একই,
একেবারে কিছু না বুঝিতে পারাই সবচাইতে ভালো বুঝা সহজ যুক্তি।
শ্রীশ্রী রামঠাকুরের সমগ্র জীবনটাই রহস্যময় এবং সাধারণ বুদ্ধির অগম্য,
তাঁহার কথা,চলা,বলার মধ্যে আমাদের না বুঝাটাই স্বাভাবিক গণ্য।
তাঁহার কথা বুঝা বা বুঝিবার মত সামর্থ্যের জন্য দরকার সাধনা ও একাগ্রতা,
কথার নিগূঢ় তাৎপর্য,প্রকৃত তত্ত্ব হৃদয়ঙ্গম করিতে পারাটা তাঁর কৃপার বারতা।
অতএব আমাদের না বুঝিবার অনেক কিছু ই থাকিবে এতে নাই কোন শন্কা,
তবে একটু বুঝিতে চাওয়ার আগ্রহ ও ধৈর্য্য থাকিলেই মিলে ঠাকুরের প্রসন্নতা।।
 
 
 
"গ্রন্থ গ্রন্থি"
পড়াশুনা করার কিছু দরকার হয় না আপনা হইতে ই সব হয়,
অধ্যাত্ম জ্ঞান লাভ করিতে একমাত্র গুরু কৃপাই আশ্রয়।
শ্রীঠাকুর বলেছেন 'আমি স্বয়ং জীবন্ত গ্রন্থ, আমাকে জানো।'
আমার কথা চিন্তা কর তাহলেই ধর্মগ্রন্থ পড়ার ফল হবে'মেনো।
'গ্রন্থ গ্রন্থি' বিচার ও তর্ককেই সার বলিয়া ধরিয়া লইতে হয়,
মূল উদ্দেশ্য স্মরণে থাকে না নিরর্থক তর্ক জালে অপচয়।
আত্মাকে বহু সাধনায় বেদ পাঠে বা বহু শাস্ত্র শ্রবনেও বোধগম্য নয়,
গুরুকৃপা হলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন কালে ভগবৎ আরাধনায় লাভ হয়।।
 
 
 
 
পরম প্রেমময় শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর এর
লীলা অমৃত
💥💥
"সুধীর, তুমি কিছু কর না, করতে পার না,
একথাটা তুমি বুঝ না,
কালে বুঝতে হইব।"
সুধীরচন্দ্র সরখেল মহাশয় কে শ্রীশ্রীঠাকুরের উক্তি
🌹🌹 (২৬)
১৯১৬। ঠাকুর মহাশয় তখন একশ' ছিয়াশি সংখ্যক বহুবাজার স্ট্রীটের দ্বিতলে ছোট্ট একটি প্রকোষ্ঠে স্বর্গীয় হরেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের কাপড়ের গুদামে অবস্থান করছিলেন। ঘরখানিতে স্তুপীকৃত নূতন কাপড়-জামায় ঠাসা, ওরই এক পাশে ছোট্ট একখানা তক্তপোশ পেতে তাঁহারই জন্য রচিত শয্যায় বসেছিলেন ঠাকুর মহাশয়। পেছনের দিকের ছোট্ট একটি জানালা দিয়ে নববস্ত্রের গন্ধ ফাগুনের মৃদুমন্দ হাওয়ায় মাঝে মাঝে বইছে।
উপস্থিত তিন-চারজন ভদ্রলোক শ্রোতা। ঠাকুর মহাশয় বলছিলেন সাবিত্রী-সত্যবানের উপাখ্যান। কী করে সাবিত্রী আপন নিষ্ঠারই উপর নির্ভর করে কালের করালগ্রাস থেকে সত্যকে উদ্ধার করতে পেরেছিলেন। এমন সময় ঘরে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন কটকের পি.ডব্লিউ.ডি.-র উদীয়মান ঠিকাদার স্বর্গীয় সুধীরচন্দ্র সরখেল মহাশয়। সুধীরবাবু ঠাকুর মহাশয়কে প্রণাম করলেন। প্রসঙ্গ থেকে ঠাকুর মহাশয় ক্ষণকাল বিরত থেকে সুধীরবাবুর পরিবারের সকলের কুশলবার্তা নিলেন। আবার ঠাকুর মহাশয় সাবিত্রী-সত্যবানের উপাখ্যানে ফিরে গেলেন।
অনেক খোঁজখবরের পর গতকালই কলকাতা থেকে তিনি সংগ্রহ করতে পেরেছেন ঠাকুর মহাশয়ের কলকাতার ঠিকানা। তাই আজ তিনি হস্ত-দন্ত হয়ে এখানে উপস্থিত হতে পেরেছেন। ইতিপূর্বে যত টেন্ডার তিনি দাখিল করেছেন সে সবই ঠাকুর মহাশয়ের সম্মতিক্রমে। সেইজন্যই তার একটা বদ্ধমূল ধারণা হয়েছিল যে তাঁহার অনুমতি নিয়ে টেন্ডার জমা দিলে লাভের অঙ্ক স্ফীতকায় হবে। আগামীকাল টেন্ডার দাখিলের শেষদিন, সুতরাং আজ রাত্রের ট্রেনেই তাহাকে ফিরে যেতে হবে কটকে। স্বাভাবিক ভাবে অসহিষ্ণু হয়ে উঠলেন সুধীরচন্দ্র। তিনি করজোড়ে ঠাকুর মহাশয়ের সামনে দাঁড়িয়ে সবকথা বললেন। ঠাকুর মহাশয়ও স্থির হয়ে সব শুনলেন। কিন্তু সধীরবাবুকে কোন উত্তর না দিয়ে পুনরায় ঠাকুর মহাশয় সাবিত্রী-সত্যবানের কথাই বলে যেতে লাগলেন। অসহিষ্ণু হয়ে উঠলেন সুধীরবাবু কয়েক মিনিটের মধ্যে। পুনরায় তিনি ঠাকুর মহাশয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন,
"কাল টেণ্ডার দাখিলের শেষ দিন-তার হাতে সময় সামান্যই আছে। সুতরাং সাবিত্রী-সত্যবানের কথা পরে বলবেন, এখন শুধু আপনি বলুন আগামীকাল আমি এই টেণ্ডার জমা দেব কিনা?"-
" এই টেন্ডার দিলে কী হইব?" ঠাকুর মহাশয় প্রশ্ন করলেন। উত্তরে সুধীরবাবু জানালেন যে তিনি আরও কয়েক হাজার টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।
ঠাকুর মহাশয় তখন বিরক্তির সঙ্গে দৃঢ়স্বরে বললেন,
"সুধীর, তুমি কিছু কর না, করতে পার না,
এই কথাটা তুমি বুঝ না,
কালে বুঝতে হইব।”
ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলেন সুধীরবাবু। জামার আস্তিন গুটিয়ে পেশী বহুল বাহুখানি সম্প্রসারিত করে তিনি বললেন যে বয়স তার তখনও ত্রিশের নিচে-বাড়ী থেকে এক কপর্দকও না নিয়ে তিনি কটকে গিয়েছিলেন। বর্তমানে ব্যাংকে তার জমা টাকার পরিমাণ বাষট্টি হাজার- একি আকাশ ফুঁড়ে তার কাছে এসেছিল? অথবা মাটি খুঁড়ে তিনি পেয়েছিলেন? না খেয়ে তিনি সারা দিনরাত কাজ করতে পারেন যদি অর্থাগম তেমন হয়। স্বরগ্রাম নীচে নামল, একটু যদি আপনার সম্মতি পাই তাহলেই আমি লাখপতি হতে পারব অতি সহজেই। ঠাকুর মহাশয় দৃঢ়স্বরে বললেন পুনরায় সেই একই কথা-
"সুধীর, তুমি কিছু কর না, করতে পার না,
একথাটা তুমি বুঝ না-
কালে বুঝতে হইব।"
ঠাকুর মহাশয়ের মুখে "তুমি" শব্দ কদাচিৎ উচ্চারিত হত। বয়স নির্বিশেষে ঠাকুর সকলকেই "আপনি" বলতেন। আর নারীমাত্রেই শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত সকলকেই "মা" বলে ডাকতেন। সুধীরবাবু জন্মসূত্রে ঠাকুর মহাশয়ের দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন-সেই জন্যই সুধীরবাবুর বেলায় এই ব্যতিক্রম।
আর কালবিলম্বের সময় ছিল না সুধীরচন্দ্রের। তিনি ঠাকুর মহাশয়কে প্রণাম করে ক্ষুন্নমনে অতি দ্রুতচরণে হাওড়া স্টেশনের অভিমুখে ছুটলেন।
১৯৫৬। সুধীরবাবু তখন প্রভূত বিত্তশালী পুরুষ। কটকে বাড়ী, জমি, কলকাতায়ও কয়েকখানা বাড়ীর মালিক। ব্যাংকে জমার অঙ্কও কয়েক লক্ষ টাকা। সখেদে বলছিলেন, বাইরে থেকে লোকে তাকে কৃতী পুরুষ এবং ধনাঢ্য ব্যক্তি বলেই ভাবেন। কিন্তু তারা তো জানেন না আমার বেদনার এক কণারও খবর। সামান্য একটা পারিবারিক কলহে তার পরিবারের সকলকেই উপবাসে কাটাতে হয়েছিল তিন দিনের মত। শিশুদের নিয়ে তিনি দোকানে বসিয়ে দু'বেলা মিষ্টি খাইয়েছেন বটে কিন্তু বয়স্ক-বয়স্কাদের প্রায় নির্জলা উপবাসে কাটাতে হয়েছিল। শিশুদের সেই নিদারুণ দুর্দিনেই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন ঠাকুর মহাশয়ের মুখে উচ্চারিত ঐ ক'টি কথা।
"সুধীর, তুমি কিছু কর না, করতে পার না,
এ কথাটা তুমি বুঝ না-
কালে বুঝতে হইবে।"
তখন বীর-বিক্রমে ঠাকুর মহাশয়ের সামনে রুখে দাঁড়িয়েছিলাম।
আজ চল্লিশ বছর বাদে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি-
আমি কত অক্ষম-
আমি কত অসহায়।
অন্নের প্রাচুর্য্য রয়েছে, করে দেওয়ার লোকেরও অভাব নেই তবুও অনাহারে, অনিদ্রায় অতি ক্লিষ্ট হয়ে কাটাতে হয়েছিল তিন দিন। তিনি তো ঠেকাতে পারেননি। ঠাকুর মহাশয়ের কথা উপলব্ধি করা সহজসাধ্য নয় বিশেষ অবস্থায় না পড়লে। অবস্থা-বৈগুণ্যই বুঝার পথ সোজা করে দেয়। কোঁচার খুটে চোখের জল একটু মুছে নিলেন মাত্র।
সুধীরবাবু আবার বলতে লাগলেন- একটু লতায়-পাতায় ঠাকুর মহাশয়ের সঙ্গে আত্মীয়তা ছিল তাই শিশুকাল থেকে তাঁহার সান্নিধ্যলাভের অনেক সুযোগই তিনি পেয়েছিলেন কিন্তু শিশুকাল থেকে চিরকালই তিনি ঠাকুরের কোন কথাই পালন করতে পারেননি। বরং বিরুদ্ধাচরণ করেছেন। সক্ষোভে ক্ষীণকণ্ঠে তিনি বলতে লাগলেন, দ্বিতীয় মহাসমর তখন শুরু হয়ে গেছে। তিনি তখন সপরিবারে তার কলকাতার বাড়িতে বাস করছিলেন, মাঝে মাঝে কয়েকদিনের জন্য কটকে ঘুরে আসতেন। বিদেশী বোমারু বিমান কলকাতার আশে-পাশে আকাশ পথে ঘুরছে-খবর আসতে লাগল। একদিন সকালবেলা খিদিরপুর অঞ্চলে ও খোদ ডালহৌসী স্কোয়ারে শত্রুপক্ষের বোমাবর্ষণ হল। লেগে গেল কলকাতা থেকে দূরে বহুদূরে সপরিবারে চলে যাওয়ার হিড়িক। নগরগুঞ্জন তখন আর তেমন নেই- পাড়াগুলি ফাঁকা ফাঁকা-বহু বাড়ীতে শিবরাত্রির সলতের মত এক আধজন রয়েছেন। অধিকাংশ মানুষেরই যারা কলকাতা থেকে পলায়ন করতে পারেননি, তাদের মুখে-চোখে মরণের আত্মঙ্করেখা ফুটে উঠেছে।
আর নয়। সুধীরবাবুও স্থির করলেন তিনি সপরিবারে কটকে তার বাড়ীতে গিয়ে থাকবেন। মৃত্যুযজ্ঞে পূর্ণাহুতি দেওয়ার জন্য তিনি তো আর অপেক্ষা করতে পারেন না, উচিতও নয়। উপস্থিত হলেন গিয়ে ঠাকুর মহাশয়ের কাছে-জানালেন সবকিছু তাঁহাকে। বললেন, কটকে বোমা পড়ার আশঙ্কা কলকাতা থেকে অনেক কম, তাই তিনি কটকে চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন।
সব শুনলেন ঠাকুর মহাশয়। শুধু বললেন,
"ভাগ্যে যার যেই দিনে,
সেই ক্ষণে মরণ লেখা আছে তার কি কোন প্রতিবিধান করা কাহারও পক্ষে সম্ভব?
মরণ কি কটকে যাইতে পারব না?
স্থির হইয়া থাক, ধৈর্য্য ধর।"
বাড়ীর চারিদিকে আগুন লেগেছে সেই সময়ে কেউ কি স্থির থাকতে পারেন? সুধীরবাবুও স্থির থাকতে পারেননি। তিনি সপরিবারে তার কটকের বাড়ীতে চলে গেলেন। কয়েক মাসের মধ্যেই সেখানে এক রাত্রিতে দুরারোগ্য ব্যাধিতে তার দুই বালক পুত্রকেই মরণ ছিনিয়ে নিয়ে গেল।
হাউ হাউ করে এবার সুধীরবাবু কেঁদে উঠলেন।
বললেন,
"আমার তাঁতীকুল, বোষ্টম কুল, দুই কুলই নষ্ট হল।
না শুনলাম ঠাকুর মহাশয়ের কথা, না রাখতে পারলাম নিজের দুই পুত্রকে মরণের হাত থেকে রক্ষা করতে।
পুত্রশোক তো এতকালে অনেকটা প্রশমিত হয়ে গেছে কিন্তু ঠাকুরের আদেশ লঙ্ঘন করার গ্লানি মাঝে মাঝেই বড় ব্যথা দেয়। এবার আমি ভাল করে বুঝতে পেরেছি আমার কোনও শক্তি নেই।
অর্থ থাকতেও উপবাসে কাটাতে হয়েছিল। ঠাকুর মহাশয়ের কথা উপেক্ষা না করে কলকাতায় যদি থাকতাম তখন, তাহলে চিকিৎসার একটা সুযোগ-সুবিধাও হত।
কিন্তু কটকে চিকিৎসা করাতে পারিনি উপযুক্তভাবে।" অচিকিৎসায়, অব্যবস্থায় পুত্র দু'টি তার চোখের সামনে শেষ নিঃশ্বাস ফেলল।
মর্মে মর্মে এবার তিনি উপলব্ধি করতে পারলেন ঠাকুর মহাশয়ের উক্তি-
"সুধীর, তুমি কিছু কর না, করতে পার না,
একথাটা তুমি বুঝ না,
কালে বুঝতে হইব।"
জয় রাম জয় রাম জয় রাম
 
 
"গুরু কৃপাহী কেবলম্ "
গুরু হচ্ছেন ভগবৎ স্বরূপ পরমাত্মা আমার মধ্যে তিনি,
অনিত্য দেহ গেহ ভোগ লালসা শেষে স্বভাবে পূর্ণত্ব স্বামী।
গুরুশক্তিই গুরুকৃপা এই শক্তির আশ্রয়ে ভক্তি ভাব প্রকাশ,
গুরু দর্শন এবং আশ্রয় পাওয়ার সময় থেকেই গুরুকৃপার আভাস।
দুর্লভ মানব জনম ই হয় সদগুরুর কৃপায় পূর্ণত্বে মুক্তি পেতে,
অহংজ্ঞানে মোহান্ধ মানব যখন আত্মবিস্মৃত, ঘুরে ফিরে ত্রিতাপেতে।
কুন্ডলিনী শক্তি নিদ্রিত থাকলেও একমাত্র মানব দেহেতেই আছে,
সদগুরুর কৃপাতে এই শক্তির জাগরণ সম্ভব বাসনা নিপাতে।
হৃদয়ের সমুদয় বাসনার গ্রন্থি ছিন্ন হয় কুন্ডুলিনী শক্তি বলে,
জীবের জীবত্ব শিবত্বে রূপ নেয় সদগুরুর কৃপা পেলে।
মানব দেহের ও ইন্দ্রিয়াদির সুখের জন্য লালসাই মহামায়া,
সামান্যতম মায়ার লেশ থাকলেও চলে গুরুশক্তির ক্রিয়া।
গুরুকৃপা দ্বারা সমস্ত বন্ধন মুক্ত হয়ে সম্ভব ভগবান পদ লাভ,
গুরু কৃপাহী কেবলম্,
ভক্তিতে তুষ্ট গুরু নামেতে দেন ভগবৎ কৃপা প্রসাদ।।
 
 
 
ভগবান নামোময় "
ভগবান এমন এক বস্তু যাহা মানুষ মনের দ্বারা মনন করতে পারে না,
মানুষের বাক্য ও মনের অগোচর তাই অচিন্ত্য,চিন্তা র দ্বারা ও উপলব্ধি হয় না।
'অবাঙমনসোগোচর' তাঁহাকে প্রকাশে আমাদের মন ও বাক্য হার মানে,
তাঁহাকে বুঝিয়াছি বলা মানবের ধৃষ্টতা মাত্র, ইন্দ্রিয়াতীত তিনি ব্রহ্মজ্ঞানে।
তাঁহাকে বুঝি না একথা বলাও মানবের জন্য ভ্রান্ত সুদুর্লভ মানব জন্মে,
ভগবানকে জানার মুমুক্ষতাই মনুষ্য জন্ম পাবার শর্ত চুরাশি লক্ষ আবর্তনে।
আমাদের প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাস,জৈব কর্মাদি বিচিত্র যত ভাগ্য ভোগ,
সবকিছুই পরতত্ত্ব ভগবানের লীলা ভান্ডার জ্ঞানবলে মানুষের সব।
সেই সত্য, সুন্দর, নিত্য, অনন্ত,অখণ্ড স্বরূপ ভগবান জগতে সর্বত্র, প্রকৃত,জ্ঞানী,ব্রহ্মবিদ্ জানান, ইন্দ্রিয়াতীত ভগবান নামোময় তৎগত,
তাই নামই ভগবান, নামেতেই ভগবানের পরিচয় সম্বন্ধ সব,
সেই নাম পেতে গুরুকৃপা লাভে ভগবান প্রকাশ হন।।
 
 
 
সংসারে স্বধর্ম্মই অকর্ত্তা বুদ্ধি "।
সংসার হল সংসারীদের সাধনার যোগ্য আশ্রম,
প্রারব্ধ ঋণ আছে বলে ই পিতামাতা,ভাইবোন,আত্মীয় স্বজন।
বিষয়বাসনা,সুখ দুঃখ,রোগ শোক ভাগ্য বশতঃ আসে,
প্রলোভন,বন্ধন,আশার মরিচীকা বিক্ষিপ্ত চঞ্চল ত্রাসে।
এসব থেকে পরিত্রাণের লাগি ভগবৎ আরাধনা সহায়,
সদগুরুর আশ্রিত হলে নামে মিলে উপায়।
সকল ভার ভগবানের উপর সমর্পি নামে কর্তব্য কর্ম,
ভাগ্যবশতঃ সুখদুঃখাদি ভোগ হয় তাতে হতে নাই উদ্বিগ্ন।
সংসারীর ধর্ম্ম হল দায়িত্ব কর্তব্য যথাসম্ভব করার চেষ্টা,
স্থির বুদ্ধিতে সুখদুঃখ সম জ্ঞান আর অকর্ত্তাবুদ্ধিতে আজ্ঞাবহতা।
নামেতে সমর্পিত থাকলে কোন কিছুতেই অস্থিরতা আসে না,
সংসার নির্বিঘ্নে,প্রারব্ধ ভোগ শেষে উদ্ধার সকল যাতনা।।
 
 
 
 
"নামের অনন্য শরণ "
মায়াময় সংসারে সুখ দুঃখ শান্তি অশান্তির তরঙ্গ,
ভালমন্দ আপনপর শত্রুমিত্র নানা বুদ্ধির দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
তরঙ্গায়িত ভাবের অকূল সমুদ্রে উদ্ধারের পথ নাম,
অতি সহজ কিন্তু অভ্যাসে পরিণত করা দুরূহ অভিযান।
নানা প্রকৃতি ও স্বভাবের সকল ভক্তের জন্য নামই সম্বল,
আর কিছুর প্রয়োজন নাই ভগবৎ শরণই সর্বোৎকৃষ্ট ফল।
এই নাম জপ উচ্চস্বরেই হউক কিংবা মনে মনে অবিচ্ছিন্ন,
যত বেশি শরণ অনুক্ষণ অবিরত অগ্রসর তত আনন্দ রসঘন।
স্থান নাই, অস্থান নাই, শুচি অশুচির নাই বালাই,নাই সময় অসময়,
হেলায় কি শ্রদ্ধায় যেই ভাবেই নাম করা হউক সুফল নিশ্চয়।
চলিতে ফিরিতে,আহারে শয়নে নাম করা যায় নির্বিঘ্নে নিশ্চিতে,
ভগবৎ শক্তি আহরণ হয় মুক্তি পেতে নামের অনন্য শরণে।।
 
 
 
 
"উপায় নিরুপায়"
ভক্তরা ভগবানকে ডাকে নিজের প্রয়োজনের তাগিদে,
ত্রিতাপ জ্বালায় বিপর্যস্ত জীবনে যখন অস্থির চারিদিকে।
প্রথমতঃ ডাকে দুঃখ নিবারণ আর বাসনা পূরণে প্রাপ্তিতে,
বিপদ আপদ,দুর্ভোগ অশান্তি, ব্যাধি বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে।
বিপদ নিবারণের শক্তি একমাত্র ভগবানেরই আছে জীব অসহায় সর্বাবস্থায়,
সম্পূর্ণভাবে নিশ্চেষ্ট না হলে কৃপা মিলে না তাঁর কোন ব্যবস্থায়।
এই বোধটুকু জাগাতে পারলেই ভক্তের প্রতি ভগবান হন সহায়,
শ্রীশ্রী রামঠাকুর তাই বলেছেন, যেকোনো অবস্থায় 'উপায় নিরুপায়"।
 
 
 
 
শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ "৩।
শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ পরা মুক্তিদাতা সাধকের পরিনির্ব্বাণ সর্ব্ব পাপ বিনাশক,
কেবল নাম নিয়া পড়িয়া থাকিলেই ভগবান কালের হাত হইতে উদ্ধার করেন সততঃ।
প্রদীপের তৈল ও সলিতার সহিত তেজের বিচ্ছেদে যেমন নির্ব্বাণ,
সাধকও তেমনি নামগুনে নিজ দেহ ও ইন্দ্রিয়বৃত্তি হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া যান।
দেহী বা আত্মা মহানির্ব্বাণ পথে ধাবিত হইয়া পরমাত্মায় যবে একাত্ম,
ভবদেহ আশ্রমে থাকিয়া যায় থাকে না কোন জাগতিক বন্ধন দেহ গেহ।
মহানাম,হরিগুণগান, কীর্ত্তন, শ্রবণরূপ শুদ্ধাভক্তি এই ধামে নিত্য অনুষ্ঠিত,
নামকীর্ত্তন কলির শ্রেষ্ঠ ভজন,নাম কীর্ত্তনরূপ তত্ত্বজ্ঞানই কেবলং কৈবল্যংএক ও অদ্বিতীয়।
 
 
 
"শ্রীশ্রী কৈবল্য নাথ " ২।
শ্রীশ্রী রামঠাকুর কৈবল্যধামের বিগ্রহ শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ রূপে আছেন অধিষ্ঠিত,
নিত্য বিরাজিত,পূজিত, সেবিত হন সেথায়,তাই এই ধাম মহাতীর্থ।
শ্রীশ্রী লক্ষীদেবী সততঃই শ্রীশ্রীকৈবল্য নাথের শ্রীচরণ সেবায় আছেন নিযুক্ত,
এই কৈবল্যধামই শ্রীশ্রী ভগবান বিষ্ণু নারায়ণের বৈকুন্ঠধাম বলে কথিত।
ভৌমবৈকুন্ঠের লক্ষীসহ শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণদেব সর্ব্বদা বিরাজ করেন তথা,
ত্রেতা যুগের পূর্ণ ব্রহ্ম শ্রীরাম চন্দ্রদেবের পুন্য লীলাভূমি অযোধ্যা ও সেথা।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ, ঈশ্বর শ্রীগোবিন্দ দ্বাপরযুগের ব্রজলীলার ভাবধারা,
শ্রী হরি কীর্ত্তনরূপ কৃষ্ণ নামের জয়ধ্বনির মাধ্যমে নামযজ্ঞের সৃজন বারতা।
কৈবল্যধাম নিত্য নাম কীর্ত্তনে মুখরিত হয়ে ব্রজধামে রূপান্তরিত ,
শ্রীঠাকুর বলেছেন 'যেখানে কৃষ্ণ নাম হয় সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ বিরাজিত।
নাম নামী একই বস্তু, যেখানে নাম হয় সেখানেই শ্রীকৃষ্ণ ইহাই ব্রজধাম,
কৈবল্যধামের প্রাণ দেবতা শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথই দ্বাপরের শ্রীগোবিন্দ, শ্রীকৃষ্ণ সমান।।
 
 
 
 
"শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ " ১।
লক্ষ্যবস্তু যখন একমাত্র অখণ্ড সত্য একেশ্বর শ্রীভগবান,
তাঁহার সাধনায় দেহমন নিযুক্ত করার জন্য স্থান কৈবল্যধাম।
তরঙ্গময় সংসারে কেবলই নানা বিবর্তন বিচিত্রতা,
এইসবে ঘটে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা আকাংখার জীবনধারা।
তারই মাঝে জীবন্মুক্তির বাসনায় উদ্বুদ্ধ হবার ইচ্ছা জাগে যখন,
সমস্ত আশা আকাংখাকে ক্রমশঃ করতে হয় স্তিমিত বিসর্জন।
তারই সুযোগ মিলে সংসার মুক্তির ক্ষেত্র কৈবল্যধামে,
শরীর ও ইন্দ্রিয় নিচয় প্রবৃত্তি মার্গ হতে প্রধাবিত হয় নিবৃত্তির পানে।
শ্রীশ্রী কৈবল্যনাথ এই ধামের প্রাণ দেবতা স্বয়ং শ্রীরামঠাকুর,
আত্মাকে মুক্ত করে সাধক ও সেবকের নির্ব্বানে কৈবল্য ধাম ক্ষেত্ররূপ।
মৃত্যুঞ্জয়ী বিগ্রহ শ্রীশ্রী রামঠাকুরের শ্রীচরণযুগল সেবায় অমর থেকে অমৃতে নেন,
মহাতীর্থ বা তীর্থরাজ কৈবল্য ধাম সাধকের আত্মাকে উদ্ধারিতে মুক্তি দেন।।
 
 
সংসারীদের প্রতি গুরুবাণী"

সংসার অর্থ ই সুখ দুঃখ, জ্বালা যন্ত্রণায় কম বেশী দহন সর্ব ধারে,
সুখ দুঃখ যেন পরম আত্মীয় কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে না পারে।
মানুষ নিরবচ্ছিন্ন সুখ খুঁজলেও দুঃখকে সাদরে বরণ ছাড়া নাই গত্যন্তর,
সেই দুঃখকে সহনশীল করে তোলার শক্তি আছে দেহের অভ্যন্তর।
গুরু বাক্য শিরোধার্য ধৈর্য্য ধরে সহ্যের পথ অবলম্বন করে,
শান্ত হয় ইন্দ্রিয়ের উৎপীড়ন, তাড়না স্তিমিত,শান্তি আসে ধীরে অন্তরে।
ভগবানের উপর নির্ভর সর্বস্ব, অনাসক্ত কর্মে সংসারে অবস্থান।
সংসার দুস্তর তরঙ্গ ভীষণ, তার সাথে চলতে সর্বাবস্থায় গুরুনাম।
জপ তপস্যাদি না করলেও ভরণপোষণ দায়িত্ব কর্তব্যে যত্নশীল হলে,
লালসার সমুদ্রের সুখদুঃখ কেটে তৃপ্তিময় সংসারে আনন্দ মিলে।।
 
 
 
শূন্য হয়ে চাইলে পূর্ণ করে পাওয়া যায় "
শ্রীরাম ঠাকুর বলেন, আমাকে যে যেমন ভাবে চায়,
তার কাছে তেমন ই প্রকাশ সে সেভাবেই পায়।
নিঃসঙ্গ ভেবে আকুল হয়ে যখন নিরুপায়ে ডাকে,
পরম প্রিয়জনের মতো সাড়া দিই কিন্তু অজানাই থাকে।
রূপ,রস,গন্ধ,স্পর্শে ভক্তের সকল বাঞ্ছা পূর্ণময়,
সকল বিত্তে বিত্তবান করি শুধু শূন্য হয়ে চাইতে হয়।।
 
 
"শ্রীনামের অভয়"
শোক,দুঃখ,বিপদ আপদ,সংসারের যত তাপ জ্বালা,
কম বেশী সকলকেই ভোগ করতে হয় এটাই জীবন লীলা।
সংসারের বিষয়সুখে শোক দুঃখকে ফাঁকি দেবার চেষ্টা
অপচেষ্টার সামিল,
পরিত্রাণ পেতে শাস্ত্রের উপদেশ নাম আর সহনশীলতায় কর্তব্য কর্মাধীন।
ইন্দ্রিয়াদি,মন বুদ্ধি অহংকার থেকে নিস্কৃতি পাওয়া দুঃসাধ্য,
একমাত্র উপায় চরম ও পরম বস্তু নামাশ্রয়ে সব অর্পণ দ্বিধামুক্ত।
শ্রীগুরুর নামে নিরন্তর নামোময় থাকাই সাধন ভজন,
শ্রীনামেতে মিলে অভয় আশ্রয়, নামেতেই গুরু সর্ব সহায় হন।
 
 
 
শ্রীগুরু, শ্রীনাম ও শ্রীভগবান"
ভগবান শ্রীগুরু দেহে অভিন্নমূর্ত্তিতে নাম বা মন্ত্র রূপ,
ভক্ত হৃদয়ে সততঃ বিরাজ করেন আপন মহিমায় চিন্ময় দেহ পরিগ্রহপূর্বক।
অসীম শক্তিধর শ্রীগুরু নিজ দেহ অতিক্রমপূর্বক চিৎ শক্তিরূপে,
নাম বা মন্ত্রের অক্ষর সমষ্টিতে অনুপ্রবিষ্ট নামের আত্মা রূপে।
ভক্ত যতই নাম করে নামের সান্নিধ্যে গড়ে বসতি নিরন্তর,
শ্রীভগবান শ্রীনামের শক্তিতে ভক্তকে করেন পরিত্রাণ উদ্ধার।
শ্রীগুরুই নাম,নামই গুরু,নামের শক্তিই গুরুশক্তি নামের মহিমা
ভগবানের রূপময়ী মূর্তি শ্রীগুরু আর বাঙময়ী মূর্তি শ্রীনাম খানা।।
 
 
 
 
শ্রীশ্রীরামঠাকুুর কলিতে এসেছেন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের নামের ঝুলি নিয়ে,
তিনি বলেছেন ভগবৎ সান্নিধ্য লাভের উপায়, মুখ্য সাধন, পথের অবলম্বন ধৈর্য্য সহ নাম দিয়ে।
পূজা সংকীর্ত্তন,জপ,ধ্যান যার যেমন সংস্কার ভাব,
কৃষ্ণ পরশন, কৃষ্ণ দরশন সবই নাম প্রবাহের স্বাদ।
সত্যযুগে দশ বৎসর ধ্যানে,ত্রেতায় এক বৎসর যজ্ঞে,দ্বাপরে একমাস বিবিধ অর্চ্চনায় যে ফল লাভ হয়,
কলিতে সে ই ফল মিলে, এক অহোরাত্র যে থাকে নিষ্ঠতায় নামোময়।।
 
 
 
 
 
 
সংসারীদের প্রতি গুরুবাণী" সংসারীদের প্রতি গুরুবাণী" Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on নভেম্বর ১৫, ২০২৫ Rating: 5

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.